বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৪

বুড়ো হতে না চাইলে যে ওষুধ

কে চায় বুড়িয়ে যেতে? যৌবন ধরে রাখার চেষ্টা মানুষের মধ্যে সে অনাদিকাল থেকেই। মানুষের এ চাওয়াকে ঘিরে চেষ্টারও শেষ নেই। কিন্তু তেমন কোন সাফল্য দেখতে পাওয়া যায়নি। এবার যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী সে চেষ্টাটিতে অনেকটাই সাফল্যের কাছাকাছি চলে এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই বিজ্ঞানী দল জানিয়েছেন, মানুষের অকালবার্ধক্য ঠেকাতে তারা শিগগিরই এক মহৌষধ নিয়ে আসছেন। এ ওষুধ বার্ধক্যতো ঠেকাবেই। সেই সঙ্গে আয়ুও বাড়িয়ে দেবে অন্তত ১০ বছরেরও বেশি।

বিজ্ঞানীরা জানান, এই গবেষণার জন্য তারা হাচিসন গ্লিফোর্ড প্রোজেরিয়া সিনড্রোমে (এইচজিপিএস) আক্রান্ত শিশুদের ত্বকের কোষ নিয়েছিলেন।

এইচজিপিএস একটি বিরল রোগ। এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা দ্রুত বুড়িয়ে যায়। মোটামুটি ১২ বছর বয়সে সাধারণত তাদের মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞানীরা ‘র‌্যাপামাইসিন’ নামের এক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে ওই শিশুদের কোষকে সারিয়ে তুলেছেন। বিজ্ঞানীরা এ ওষুধটিকে ‘চিরযৌবনের ওষুধ’ বলে অভিহিত করছেন।

মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সময় এই র্যাপামাইসিন ব্যবহার করা হয় শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল করার জন্য। আর এ ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে ইস্টার আইল্যান্ডের মাটিতে পাওয়া এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে 

যেভাবে বুঝবেন সঙ্গী পরকীয়া করছে

পরকীয়ার সংজ্ঞায় সব সময় বিবাহিত নারী-পুরুষ ভূমিকা পালন করবে তা কিন্তু নয়। প্রেমিক-প্রেমিকাও এ ভূমিকা পালন করে থাকে প্রায়ই। একে অপরকে প্রথম দিককার মতো পছন্দ করতে না পারলেই ঘটে এই অঘটন। এছাড়াও কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণেও অনেকে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একটি বিশ্বাসের সম্পর্ককে ভেঙে দিতে পারে নিমিষেই। অনেকে আছেন যারা বুঝতেই পারেন না তার সঙ্গী পরকীয়ায় লিপ্ত। পরবর্তীতে হুট করে যখন সত্য প্রকাশ পেয়ে যায়, তখন মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু আপনার সঙ্গী পরকীয়ায় লিপ্ত কিনা তা বোঝার কিছু উপায় রয়েছে। সাইকোথেরাপিস্ট স্টেসি কাইজার তার সঙ্গীর পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার কিছু লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা দেন। তাই নিজের জীবনের সুখের জন্য তা জেনে নেয়া খুবই জরুরি।

১. দীর্ঘক্ষণ ব্যস্ত থাকা
লক্ষ্য করে দেখুন তো আপনার সঙ্গীর মোবাইল ফোন কি মাঝে মাঝে বন্ধ পাওয়া যায়? অথবা আপনি তাকে ফোন দিলে বেশীরভাগ সময় ওয়েটিং পান? যদি এই ধরণের কাজ প্রায়ই হতে থাকে তাহলে সঙ্গীর গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখুন। শুধুমাত্র সন্দেহের বশে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না। প্রথমে দেখে নিন আপনার সন্দেহ সঠিক কিনা।

২. পাসওয়ার্ড পরিবর্তন
আপনার সঙ্গীর মোবাইল ফোনের বা কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড কি আপনার জানা আছে? তিনি কি আপনাকে তার সব তথ্য জানাতে আগ্রহী? কিম্বা আগে জানা থাকতো অথচ বর্তমানে জানেন না। এমন হলে অবশ্যই সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। দেখুন, তিনি আপনাকে এসব তথ্য নিজে থেকে দেন কিনা। অথবা আপনি চাইলে আপনার সঙ্গে কী ধরণের আচরণ করেন তাও বোঝার চেষ্টা করুন।

৩.  নিজের ফোন লুকানো
আপনি তার সঙ্গে থাকলে নিজের মোবাইল ফোনটি তিনি কোথায় রাখেন? যদি স্ক্রিন উল্টো করে রাখে বা ফোন বন্ধ করে দেয় তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখুন তো। এটা ভেবে ‍নিবেন না আপনাদের সময়টা শান্তিতে কাটানোর জন্যই সে এই কাজটি করছে। এর অর্থ এমনও হতে পারে যে, আপনার সঙ্গী চান না আপনি তার সব কিছু দেখুন। আপনার মনে সন্দেহের সৃষ্টি করার মতো কিছু থাকলে অবশ্যই সে লুকাবে। তবে আপনাদের সময়টা শান্তিতে কাটার জন্য কাজটি করছে কিনা তাও বুঝে নিন।

৪. কম সময় দেয়া
দুজনের একসঙ্গে সময় কাটানোটা একটু ভালো করে ভেবে দেখুন তো। কাজের চাপে সময় কাটানো হয়ে ওঠে না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে? খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন আসল সত্যটা। কারণ সঙ্গী পরকীয়ায় লিপ্ত হলে আপনাকে দেয়া সময়ের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে আসবে। আর এটায় স্বাভাবিক। -

যে কারণে তরুণের প্রেমে পড়ে বয়সে বড় বিবাহিতা নারী !

আজকাল এই বিষয়টি খুব দেখা যায়, কমবয়সী একজন তরুণ প্রেম করছেন বয়সে অনেকটা বড় কোন বিবাহিতা নারীর সাথে। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা পরকীয়া। ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স কোন বাঁধাই নয় সত্য। বয়সে বড়, ডিভোর্সি কিংবা বিধবা একজন নারীর সাথে কোন তরুণের প্রেমের সম্পর্ক সমাজ সমালোচনার চোখে দেখলেও আসলে তেমন অন্যায় নেই তাতে। কিন্তু প্রেমটা যখন বয়স্কা বিবাহিতা নারীর সাথে হয়? অবশ্যই নৈতিকতার একটা প্রশ্ন চলেই আসে। স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও যখন প্রেম নিবেদন করছে একজন কমবয়সী তরুণ, নারী হয়তো নিজেকে সংবরণ করতে পারছেন না। কিন্তু একটি তরুণ কেন প্রেমে পড়ে এমন একজনের, যেখানে চাইলেই সে কোন তরুণীর সাথে প্রেম করতে পার

১) সত্যিকারের ভালোবাসা
সত্যিকারের ভালোবাসার কোন বয়স, ধর্ম, জাত, হিসাব-নিকাশ নেই। এমন ভালোবাসা যে কারো জীবনে হতে পারে আর যখন-তখন হতে পারে। আজকাল সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাওয়া দুর্লভ হলেও এটা হতেই পারে যে শত পার্থক্য সত্ত্বেও মানুষ দুজন আসলেই নিজেদের গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলেন। এক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্নটা উঠতেই পারে। তবে জবাবটাও আপেক্ষিক, জীবন থেকে জীবনে বদলে যায়।

২) ফ্যান্টাসির জগতে থাকা
অনেক তরুণই কিশোর বয়স থেকে বয়সে একটু বড় নারীদের নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভুগে থাকেন। দেখা যায় খুব কম বয়সে কোন আপা বা আনটির প্রেমে পড়ে যায়। সেই প্রেমে সফল হতে না পেরে ফ্যান্টাসির পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকে। আর তাতে ইন্ধন যোগায় পর্ণগ্রাফির মত অসুস্থ বিষয়টাও। কিশোর থেকে তরুণ হতে হতে ছেলেটির ফ্যান্টাসির পরিধিটা আরও বাড়ে। তার তখন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিবাহিতা নারীদেরকে আক্ষরিক অর্থেই বেশী আকর্ষণীয় মনে হয়।

৩) নায়িকাদের কারণে
আমাদের সমাজে ছোটবেলা থেকেই নায়িকা, বিশেষ করে বলিউডের নায়িকাদের দেখে বড় হয় কিশোর-তরুণেরা। আর সেই বয়স থেকে বয়সে বড় নায়িকাদের প্রতি তীব্র আকর্ষণ জন্মে যায়। সেই আকর্ষণের আবেদন পূরণ করতেই বয়স্কা বিবাহিতা নারীদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায় তাঁরা।

৪) যৌন অভিজ্ঞতার খোঁজে
একজন বয়সে বড় বিবাহিতা নারী নিঃসন্দেহে যৌনতার দিক থেকে অনেক বেশী অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। আর এই বাড়তি অভিজ্ঞতার খোঁজে অনেক ছেলেই মনে করে প্রথম যৌনতার সাথী হিসাবে একজন বিবাহিতা নারীই ভালো। বয়সে বড় হলেও এক্ষেত্রে অসুবিধা হয় না কোন। এই অসুস্থ চিন্তা থেকে এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বেশিরভাগ তরুণ।

৫) ফাঁদে পড়ে যাওয়া
সবক্ষেত্রে যে একেবারে পুরুষেরই দোষ, তা কিন্তু নয়। অনেক ক্ষেত্রেই নারী নিজের দুঃখের কথা শুনিয়ে কিংবা নানান রকম ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে তরুণটিকে ফাঁদে আটকে ফেলে। এবং এমন অনেক ক্ষেত্রেই ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে বোঝার পরও তরুণটির কিছুই করার থাকে না।

৬) দায়িত্ব নিতে হয় না
একজন বয়সে বড় বিবাহিতা নারীর সাথে প্রেম ও যৌন সম্পর্কে জড়ানোর সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে দায়িত্ব নেয়ার কোন দায় থাকে না। যতদিন ইচ্ছা প্রেম হলো, ইচ্ছা না হলেই স্বামী-সন্তানের দোহাই দিয়ে ছেলেটি সরে যেতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রেই এমন সম্পর্ক পরিণতির দিকে যায় বা ছেলেটি সাহস দেখায় আরেকজনের স্ত্রীকে বিয়ে করার।

৭) আর্থিক নিরাপত্তার খোঁজে
অনেক তরুণের কাছেই এই প্রেমগুলো হচ্ছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বা ক্যারিয়ারের ভালো করার চাবিকাঠি। নারীর হয়তো তার সিনিয়র কর্মক্ষেত্রে, সেক্ষেত্রে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনেক কিছুই আদায় করে নেয়া সম্ভব। কিংবা নারী যদি ধনী লোকের স্ত্রী হন বা নিজে কোন পেশায় নিয়োজিত থাকেন, সেক্ষেত্রেও বিনা শ্রমে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। কেবল একটু প্রেমের অভিনয় করলেই হয়।

দাম্পত্য কলহে ওজন বাড়ে

দাম্পত্য কলহ ডেকে আনে মানসিক অশান্তি। এর সঙ্গে থাকে নানারকম শারীরিক সমস্যাও। তবে দাম্পত্যজীবনের এই অশান্তি শরীরের ওজন বাড়াতে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে কাজ করে। দাম্পত্য কলহ থাকলে অল্পদিনের মধ্যেই ওজন বেড়ে যেতে পারে বেশ কয়েক পাউন্ড!

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যকোর সবসময় চলা অশান্তি একদিকে যেমন চরম মানসিক অবসাদ ডেকে আনে, অন্যদিকে নানা রকম বিপাকীয় সমস্যার জন্ম দেয়। ফলে ঝগড়ায় কিছুটা ক্যালোরি পুড়লেও রক্তে বাড়ে ইনসুলিন ও ট্রাইগ্লাইসেরাইডসের পরিমাণ। ট্রাইগ্লাইসেরাইডস হলো রক্তে অবস্থিত একধরণের ফ্যাট। গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে, অশান্তির দাম্পত্য জীবনে জড়িত ব্যক্তিদের ওজন বছরে গড়ে প্রায় ১২ পাউন্ড করে বাড়ে।

পেটভরে খাওয়া দাওয়ার পর ঝগড়া বাধলে এই সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায় দ্বিগুনের বেশি। এমন কী শরীরে জন্ম নিতে পারে অতিরিক্ত মোটা হওয়ার প্রবণতা (ওবেসিটি)। শুধু তাই নয় বাড়তে পারে হার্টের অসুখ ও ডায়াবেটিসের আশঙ্কা।

যে অভ্যাসে প্রেম ভেঙে যায়

ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানোর পেছনে সবারই কিছু ইতিবাচক কারণ থাকে। কারো জন্য মনের এক কোনায় জমতে থাকা শিশির কনার মতো ভালোবাসা একসময় পাহাড়ের রূপ ধারণ করে। আর তখন তা আর ধরে রাখা মুশকিল।  নিজেকে তখন খুবই একা লাগে। কারো ভালোবাসা মাখা আদরের অভাব অনুভব হয় তীব্রভাবে।

কিন্তু সব কারণই একসময় অমূলক হয়ে পড়বে, যদি আপনার মধ্যে কিছু বদঅভ্যাস থাকে। এতে যেমন নিজেও সুখী থাকতে পারবেন না, তেমনি সঙ্গীকেও রাখতে পারবেন না শান্তিতে। আর এই অভ্যাস গুলি থাকলে আপনার প্রেম টুটে যাওয়ার আশঙ্কায় বেশি।

 সবসময় চুলচেরা বিশ্লেষণ
সঙ্গীর সব কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ আপনার মনকে অশান্ত রাখবে পুরোপুরি। তার সব কাজে খুত ধরা, সামান্য কাজেও ছাড় না দেওয়া এবং একই কথা তাকে বারবার বলে বিরক্ত করা চলমান সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। অপরদিকে আপনি হয়তো আরো ভালো কোন সঙ্গী খোঁজায় সময় নষ্ট করছেন। যা আপনাকে তো কষ্টে রাখছেই সেই সঙ্গে সঙ্গীকেও কষ্টে রাখছে। তাই এমন অভ্যাস থাকলে সম্পর্কে না জড়ানোয় ভালো না।

পরনির্ভরশীলতার অভ্যাস
আপনি যদি এখনো পরনির্ভরশীল হয়ে থাকেন তবে উচিৎ হবে প্রেমের সম্পর্কে না জড়ানো। কারণ আপনি সম্পর্কে জড়িয়ে গেলে সঙ্গীর প্রতিও অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে যাবেন। যা সঙ্গীর জন্য বিরক্তিরও ব্যাপার বটে। তাই সম্পর্কে জড়ানোর আগে পরনির্ভরশীলতা কাটানোর চেষ্টা করুন।

সঙ্গী নির্বাচনে অদক্ষ
আপনি যদি আগেও দু-একবার ভুল সঙ্গী নির্বাচন করে থাকেন তবে সেই পথে আবার পা না বাড়ানোয় ভালো। কারণ, আপনি নিজের জন্য কেমন সঙ্গীর প্রয়োজন সে ব্যাপারে একেবারেই আনাড়ি। তাই আর ভুল করার প্রয়োজন নেই।

সম্পর্কে জড়ানো নিয়ে দ্বিধা
`সম্পর্কে জড়ানো ঠিক হবে কি হবে না’ এই নিয়ে মনে সামান্য কোনো দ্বিধা কাজ করলে সম্পর্কে না যাওয়াই ভালো। কারণ মনে দ্বিধা নিয়ে সম্পর্কে জড়ানো একেবারেই উচিৎ না। আপনি সঙ্গীকে নিয়ে সব সময় দ্বিধাবোধ করতে থাকবেন। আপনার নিজের যেমন অশান্তি লাগবে সঙ্গীরও ঠিক একই রকম বিরক্তি লাগবে। সুতরাং প্রথমে দ্বিধা দূর করার চেষ্টা করে নিন।

আগের সম্পর্ক বয়ে বেড়ানো
আপনার যদি আগের সম্পর্ক বয়ে বেড়ানোর ইচ্ছা থাকে তবে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর চিন্তা করা উচিৎ নয়। কারণ আপনি সব সময় বর্তমান সম্পর্ককে আগের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করবেন। নিজে মনোকষ্টে ভুগবেন এবং বর্তমানের সঙ্গীকেও কষ্ট দিতে থাকবেন।

এইসব অভ্যাস থাকলে নতুন কোনো সম্পর্কে জড়ানো একেবারেই ঠিক নয়। আর সম্পর্ক যদি গড়ে ওঠেও তবে তা টুটে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে বেশি। তাই কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার আগে অবশ্যই বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিৎ।

যে ভুলে হারাচ্ছেন আপনার যৌবন ?

আজকাল ৩০ এর কোটা পার করতেই চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেখা যায় অনেকেরই। মুখের চামড়া ঝুলে পড়া কিংবা চোখের নিচের বলিরেখা  অথবা মুখে বয়স জনিত মেচেতা,  দাগও দেখা যায়। বিরূপ আবহাওয়ার পাশাপাশি এই অল্প বয়সে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে যাবার জন্য দায়ী আমাদেরই কিছু বদ অভ্যাস৷


এই খারাপ অভ্যাসগুলো আমাদের ভেতরটার সঙ্গে সঙ্গে বাইরের সৌন্দর্যও কেড়ে নেয়। আপনার শরীরকে শুধু দুর্বলই করছে না,  নষ্টও করে দিচ্ছে আপনার চেহারার সৌন্দর্যকে। ফলে বয়সের থেকেও তাই অনেক বেশি বয়স্ক দেখায় আপনাকে। অথচ সামান্য এই ভুল গুলো শুধরে নিলেই কোনও রকম বাড়তি যত্ন ছাড়াই আপনার শরীর ও চেহারার যৌবন থাকবে অটুট।

ঘুম কম হওয়া
ব্যস্ততা কিংবা অন্যান্য অনেক কারণেই আমাদের ঘুম ঠিক করে হয় না। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দিনে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। পরিমিত না ঘুমানোর জন্য দেহে অন্যান্য রোগের পাশাপাশি ত্বকেও দেখা যায় বয়সের ছাপ পড়তে। ডার্ক সার্কেল ও চোখের নিচের ফোলা ভাবের জন্য দায়ী পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। শুধু তাই নয় অপর্যাপ্ত ঘুমের কারনে দ্রুত মুখের চামড়া ঝুলে পড়ে। আর অনেক বাড়তি অসুখ বিশুখ তো সঙ্গে আছেই বোনাস হিসাবে!

বেশি মিষ্টি খাবার খাওয়া
বেশি পরিমাণে মিষ্টি খাবার খাওয়া শুধুমাত্র ওজনই বাড়ায় না, ত্বকেরও অনেক ক্ষতি করে। অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে ত্বকের কোলাজেন টিস্যুর ক্ষতি হয়,  ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেখা যায়। এদিকে আপনার ওজন বাড়ায়,  শরীরে জন্ম নেয় নানান রকম রোগ, খুব কম বয়সেই রীতিমত বার্ধক্য নিয়ে আসে শরীরে। সুতরাং মিষ্টি খাবার একটু এড়িয়ে চলুন অথবা পরিমিত খান৷

ধূমপান ও মদ্যপান
ধূমপান ও মদ্যপানের ফলে শরীরের কি ক্ষতি হয় সেটা নতুন করে বলার কি কিছু আছে? একই সঙ্গে চেহারাতেও  ক্ষতি হয় ভীষণ। ত্বকের নিচের শিরা-উপশিরায় রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে যায়। এতে ত্বকের নিচের শিরা-উপশিরা স্থায়ীভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়। ফলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের বয়সজনিত দাগ দেখা দেয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম করা ভাল নয়
ব্যায়াম করা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। এ তো সবাই জানে৷ কিন্তু অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভাল নয়। আপনি যদি ভাবেন যে বেশি ব্যায়াম করলে শরীর সুগঠিত হবে তা হয়তো ঠিক। তবে এটাও ঠিক যে বেশি কায়িক পরিশ্রমও শরীর ও চেহারা থেকে কেড়ে নেয় যৌবন। এর পাশাপাশি ত্বকের যৌবনও হারাতে পারেন আপনি৷ অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলে ত্বকের কোলাজেন টিস্যু ভেঙে যায়। এর ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে আপনাকে বয়স্ক দেখতে লাগবে৷

যে মানুষদের কখনোই মশা কামড়ায় না !

আপনি যদি কোন এক গ্রীষ্মের রাতে বাইরে থাকাকালীন সময়ে নিজের দুই হাতে তালি মারা ছাড়া ঘুমুতে পারেন তাহলে বুঝে নিবেন মশার অপ্যায়নে আপনার শরীর ততক্ষণে আপ্যায়িত হয়ে গেছে। এছাড়া আর যেটা হতে পারে তা হলো উড়ন্ত এই পতঙ্গগুলো আপনাকে ভালোবেসে কামড়ায় না। মজার বিষয়টি হলো কিছু মানুষ আছে যাদেরকে সত্যিই মশা কামড়ায় না।



জার্মানির ভ্যাঙ্কুবারে অনুষ্ঠিত গত বুধবারের টেড টকে মাইক্রোবাইয়াল ইকোলজিস্ট রব নাইট ব্যাখ্যা করেন কেন কিছু লোককে মশারা কামড়ায় না। তিনি বলেন আমাদের ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া কিংবা জীবাণু শরীরে এমন সব রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে যা মশাকে আকৃষ্ট করে। বিজ্ঞানীরা বলেন আমাদের শরীরে অবস্থান করা ব্যাকটেরিয়া কিংবা জীবাণুর সংখ্যা মিলিয়ন অথবা বিলিয়ন পরিমাণ নয় বরং এর সংখ্যা ট্রিলিয়ন(১০০০ বিলিয়ন সমান ১ ট্রিলিয়ন)। রব নাইট জানান প্রায় ১০০ বিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া শরীরে জীবিত থাকে তার মধ্যে কিছু সংখ্যক ঘামের গন্ধ বা ত্বকের বিভিন্ন গন্ধ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। এর মানে হলো এই ব্যাকটেরিয়াগুলো ছাড়া আমাদের ত্বকে কোন গন্ধ সৃষ্টি হবে না ফলে মশারাও কামড়াতে পারবে না। নাইট আরো ব্যাখ্যা করেন একজন ব্যক্তির ডিএনএ এর বৈশিষ্ট্যমূলক বিষয়ের সাথে অন্য মানুষের বৈশিষ্ট্য প্রায় ৯৯.৯% মিলে যেতে পারে কিন্তু কোন একটি জীবাণুর সাথে সেই মিলকরণ মাত্র ১০% বেশি হওয়া সম্ভব নয়।

ত্বকের প্রতি মশার এই আকর্ষণের পরিমাণ পরীক্ষা করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ৪৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক। তারপর তাদেরকে দুইদিন অ্যালকোহল, রসুন, মশলাজাতীয় খাবার এবং গোসল থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তারা ২৪ ঘন্টা নাইলনের তৈরি মোজা পড়ে থাকতেন যেন তাদের শরীর থেকে জীবাণুদের আলাদাভাবে শনাক্ত করা যায়। তারপর গবেষকরা মশাদের আকৃষ্ট করার টোপ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবকদের পায়ের তলায় সৃষ্টি হওয়া ঘামের মতো তরল কাঁচের তৈরি একধরণের নিড়ানি দ্বারা তুলে নেন।

৪৮ জনের মধ্যে ৯ জন মানুষের ত্বকের গন্ধের প্রতি মশারা বেশি আকৃষ্ট হয়। সাতজন মানুষের গন্ধের থেকে মশারা দূরে থাকে অর্থাৎ তাদেরকে মশারা কামড়ায় না। গবেষকরা দেখেন যে বেশি আকৃষ্ট গন্ধের মানুষদের ত্বকে সাধারণ ত্বকের তুলনায় ২.৬২ গুন বেশি আকৃষ্টকরণ জীবাণু থাকে। কম আকৃষ্টকরণ ত্বকের চেয়ে তা প্রায় ৩.১১ গুন বেশি। গবেষকরা বলেন কিছু মানুষের ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই ডিউডোরেন্ট। যা মশাদের বেশি পরিমাণ আকৃষ্ট করে। মজার তথ্যটি হলো বেশি পরিমাণ বিয়ার পানকারীদের ত্বকে মশারা বেশি আকৃষ্ট হয়।

বিশ্বজুড়ে ভয়ানক কিছু মহামারী রোগ যেমন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া রোগের জন্য দায়ী মশা। প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষ মশাবাহিত রোগের কারণে মারা যায়। - See more at: http://www.sylhetview24.com/news/details/Life_Style/16612#sthash.xNYtDnKf.dpuf